মাংস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপের মুখে ম্যাকডোনাল্ডস

গরুর মাংস ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের কারণে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বিশ্বখ্যাত ফাস্ট ফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ডস।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, এ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মুনাফা কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পড়তে পারে। খবর এফটি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ম্যাকডোনাল্ডসের বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মূলত বিভিন্ন সাশ্রয়ী অফারের কারণে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক টানতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ প্রবৃদ্ধির হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেশ কম।

ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান নির্বাহী ক্রিস কেম্পচিনস্কি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে রান্নার খরচ ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় অনেকটা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের বাজেটে টান পড়েছে। এ নিম্ন আয়ের মানুষই মূলত ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান গ্রাহক।

তিনি আরো জানান, এ মূল্যস্ফীতির প্রভাব সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ওপর পড়ছে, যারা বিশ্বজুড়ে ম্যাকডোনাল্ডসের ৯৫ শতাংশ রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। ব্যয় বাড়লেও গ্রাহক ধরে রাখতে কোম্পানিটি অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়াতে পারছে না। ফলে মুনাফার মার্জিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ডলারে সকালের নাসতার মতো যে সাশ্রয়ী অফারগুলো দেয়া হচ্ছে, তাতে বিক্রি বাড়লেও লাভ হচ্ছে খুব সামান্য।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ম্যাকডোনাল্ডস নয়, ফাস্ট ফুড খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও একই সংকটে ভুগছে। যেমন আরেক জনপ্রিয় চেইন শেক শ্যাক গরুর মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের শেয়ারবাজারেও বড় ধস নেমেছে।

ম্যাকডোনাল্ডস জানিয়েছে, চলতি প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তাদের মোট আয় ৯ শতাংশ বেড়ে ৬৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে কোম্পানিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আগামী দিনগুলোয় খরচ আরো বাড়লে খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও